প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!!!!!যোগাযোগের ঠিকানা: মোবাইল: ০১৭১২-৮৪ ০৯ ৪২, ০১৭৩৯- ৮৪ ৬১ ১৪ !!!!!!! ই-মেইল: shadhinkantho24@gmail.com

জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে চায় প্রতিবন্ধী বকুল – || স্বাধীনকন্ঠ২৪.কম ||
E-currency exchanger rating

জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে চায় প্রতিবন্ধী বকুল

এস এইচ সাইফ,নাটোর থেকে ফিরে্‌,: একদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধীতা অন্যদিকে সামাজিক প্রতিকূলতা, সব বাধা জয় করে এগিয়ে চলেছে বকুল কুমার বিশ্বাস। বয়স ৩৫ পার। বাড়ি তার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের পাঁচবাড়ীয়া গ্রামে।

বকুলের উচ্চতা তিন ফুট চার ইঞ্চি। শারীরিক প্রতিবন্ধী বকুল উপজেলা সদর বনপাড়া সহ এলাকার সবার কাছে পরিচিত জোকার বকুল হিসেবে। চা বিক্রেতা বাবা গৌরপদ বিশ্বাসের কনিষ্টতম ও নবম পুত্র বকুল। ৩ শতাংশ আয়তনের ভিটামাটির মালিক তার বাবা। আবাদি জমি নেই তার।

সংসারে দারিদ্র্যর ছোঁয়া থাকলেও বেশ আদরেই বেড়ে উঠেছিল বকুল। একটু বয়স বাড়ার পর থেকে তাকে ঘিরে পরিবারের আনন্দ ম্লান হতে থাকে। আত্মীয়-স্বজন সহ আশেপাশে তার সমবয়সী সবারই শারীরিক পরিবর্তন ঘটলেও বকুলের শারীরিক ও উচ্চতার কোন পরিবর্তন হয় নাই। ফলে চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের সবাই। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করা সত্বেও তার উচ্চতার কোন পরিবর্তন হয়নি । বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার জন্মগত কিছু শারীরিক ত্রুটি।

খাট ও প্রতিবন্ধী কেন হয় তা জানতে চাইলে বনপাড়া পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী এ প্রতিবেদককে জানান, বংশগতিতে ক্রোমোজমে অবস্থিত জিনের ধারাবাহিতার প্রভাবে, ভ্রুণকালীন বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ ও প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্ত সমস্যা হয়ে থাকে।

এরমধ্যেই অতিবাহিত হয় তার জীবনের ১০/১১টি বছর। শেষ হয় তার প্রাথমিক স্তরের লেখা-পড়া পঞ্চম শ্রেণী। সমবয়সী অন্যদের মতো বকুলের শারীরিক গঠন ও উচ্চতার কোন পরিবর্তন না হওয়ায় শ্রেণীকক্ষে হাসি-তামাসার উপকরণ হয় সে। এ কারণে হাইস্কুলের শিক্ষা জীবন ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে এক সময় ঝরে পড়ে বকুল। অভাবী মা-বাবার সংসারে সে ক্রমান্বয়ে হয়ে উঠে এক আপদ। নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবার কাছেই যেন উপেক্ষিত হতে থাকে সে। এভাবেই বছর গড়ে যায় ১৫/১৬টি। তবে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে জোকারিপনা করায় এলকায় ছড়িয়ে পড়ে তার নাম জোকার বকুল। যদিও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর কোন অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ ছিল না তার। আর এ কারণেই সার্কাস দল হতে কয়েকবার স্বাগত জানায় তাকে। ইচ্ছা থাকলেও বেতন অতি নগন্য হওয়ায় এবং মা-বাবা রাজী না থাকায় সার্কাসে যাওয়া হয়নি তার।

অভাব অনটনের সংসারে এক সময় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে সে। প্রতিবন্ধী হয়েও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সামান্য বেতনের কর্মচারী হিসেবে সর্ব প্রথম যোগদান করে একদিন উপজেলার কয়েন বাজারের রোপ্য ও স্বর্ণালঙ্কার তৈরির এক জুয়েলার্সের দোকানে। তারপর গাইবান্ধা জেলা শহরের গোবিন্দ জুয়েলার্সে ও বর্তমানে নিজ উপজেলার কয়েন বাজারের কল্যানী জুয়েলার্সে।

দীর্ঘ ১৯/২০ বছরের কর্ম-অভিজ্ঞতায় সে এখন তৈরি করে সোনা-রূপার বিভিন্ন অলঙ্কার। বর্তমান তার মাসিক বেতন মাত্র দুই হাজার। কিন্তু একই দোকানে অন্য কর্মচারীদের মাসিক বেতন ৯/১০ হাজার টাকা। দুর্মুল্যের এ বাজারে এত কম বেতনের চাকরি করে বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে সে।

কল্যানী জুয়েলার্সের মালিক সেন্টু কর্মকার এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বকুল কুমার বিশ্বাস জুয়েলার্সের সব হিসাব-নিকশ ও কাজ জানে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ ও অলঙ্কারাদি তৈরির উপকরণাদি পেলে সে একটি জুয়েলার্সের দোকান চালাতে পারবে।

বকুল কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ ও অলঙ্কারাদি তৈরির যাবতীয় উপকরণ সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারলে নিজেই জুয়েলার্সের দোকান পরিচালনা করে অধিক আয়-উপার্জনের মাধ্যমে অভাবী সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আনতে পারবো। তার জন্য প্রয়োজন আমার সুদবিহীন, সহজ শর্তে, ঋণ সুবিধা সহ এলাকার বিত্তশালী ও সহ্রদয়বান ব্যক্তিগণের সহায়তা।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. রবিউল করিম জানান, বকুল কুমার বিশ্বাসকে প্রতিবন্ধী হিসেবে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর আঠার শ’টাকা করে ভাতা দেয়া হয়। কিন্তু যথাযথভাবে সে ঋণ প্রাপ্তির আবেদন না করায় অত্রাফিস থেকে ঋণ সুবিধা পায়নি। তবে আবেদন করলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবো।

বকুল তার বৃদ্ধ বাবার সাথে বসবাস করেন পাঁচবাড়ীয়া গ্রামের একটি জীর্ণ কুঠিরে। অন্য ভাইদের বিয়ে হওয়ার পর পৃথক হয় তারা। তার মাতা মারা গেছেন প্রায় দু বছর আগে। ভাত রান্নার জন্য নির্ভর করতে হয় তাকে অন্য ভাই-ভাবীদের ওপর। বিয়ে করার প্রবল ইচ্ছা বকুলের। কিন্তু কোন মেয়েই রাজী হয় না বিয়ে করতে তাকে। মোবাইল ফোনে ২/১ জন মেয়ের সাথে প্রেমালাপ হলেও, সঠিক পরিচয় ও প্রতিবন্ধীতার কথা জানার পর কেটে পড়ে তারা। নিঃসঙ্গ জীবন অতিবাহিত হওয়ার কষ্টের কথা জানায় সে। পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তি জীবনে চলার পথে, নিজেকে আলোকিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক বাধা তার। তারপরও সে প্রতিবন্ধী হিসেবে অন্যের কাছে ভিক্ষার হাত না বাড়িয়ে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে, জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে চায় প্রতিবন্ধী বকুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিবাহিত নারীদের অর্ধেকই পারিবারিক সহিংসতার শিকার

নিউজ ডেস্কঃ বদ্ধঘরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার কথা কেউ জানবে, এটা কেমন কথা! স্বামী দু-চারটা চড়-থাপ্পড় মারতেই পারেন! দুটো গালমন্দ না হয় ...

Translate »
shares