ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

১৯৪০ সাল থেকে শিক্ষার আলো ছড়ানো চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ অন্তহীণ সংকট ও সমস্যায় জর্জড়িত ! - || স্বাধীনকন্ঠ২৪.কম ||

১৯৪০ সাল থেকে শিক্ষার আলো ছড়ানো চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ অন্তহীণ সংকট ও সমস্যায় জর্জড়িত !

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া: ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে অনগ্রসর বাঙালী জাতিকে অগ্রসর জাতিতে রুপান্তরিত করতে অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী বাংলার বাঘখ্যাত শের-ই বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৪০ সালে তাঁর এলাকা চাখারে ৩৫ একর সম্পত্তির ওপর নিজ নামে ফজলুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে কলেজটি সরকারী করণ করা হয়।৭৭ বছর ধরে চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ বরিশাল অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে।এ কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তীতে প্রশাসন ও রাজনীতির শীর্ষ পদে আসীণ হয়ে দেশ বিদেশে সুখ্যাতি ছড়িয়েছেন।ঐতিহ্যবাহী এ কলেজে সর্বশেষ ১৯৮০-৮১ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।ওই সময়ের কলেজের জিএস ও বর্তমানে চাখার ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার জানান এক সময় এ কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজারের ওপরে ছিলো। ওই সময় শিক্ষার্থীদের পদভারে শুধু কলেজ ক্যাম্পাস নয় গোটা চাখার ও পাশ্ব¦র্তী এলাকাও মুখরিত ছিলো। দক্ষিনাঞ্চলের দূর দূরান্ত থেকে শিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীরা তখন চাখার ও এর পাশের ইউনিয়নের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভাড়া নিয়ে আবার অনেকে লজিং মাষ্টার হিসেবে থেকে লেখাপড়া করতো।সেই সময়ের সরব ছাত্র সংসদ এখন কেবলই ধুসর স্মৃতি। কালের পরিক্রমায় বরিশালের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অসংখ্য কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ তার পুরনো জৌঁলুস হারিয়ে ফেলে।কলেজে বাংলা, ইংরেজী, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি,অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,দর্শন,হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা মোট ৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর পরেও তার পুরনো সেই গৌরবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছেনা।কলেজে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৫শতে এসে নেমেছে।অন্তহীণ সমস্যা ও সংকটে কলেজটি অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রায় দুই দশক পূর্বে নির্মিত কলেজের তিন তলা ভবন দুটি নির্মাণ নি¤œমানের হওয়ায় এরই মধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে এবং দেয়াল ও ছাদে অসংখ্য ফাঁটল সৃষ্টি হয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে।বৃষ্টি নামলেই ছাদ চুইয়ে পানি শ্রেণী কক্ষের ভিতরে পড়ে একাকার হয়ে যায়। ফলে পাঠদান ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।এছাড়া ভবন ও কক্ষ স্বল্পতার কারণে পাঠদান চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম সফিউর রহমান জানান কলেজে অবকাঠামো ও জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।তার বাসভবন ও ছাত্রাবাস জরাজীর্ণ ভুতুরে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।বর্তমানে কলেজে ১২ টি প্রভাষক,৪টি সহযোগী অধ্যাপক,৪টি প্রদর্শক,একজন লাইব্রেরীয়ান,একজন ক্রীড়া শিক্ষক,১৩টি চতুর্থ শ্রেণী ও ৫ টি তৃতীয় শ্রেণীর পদ খালী রয়েছে। তিনি জানান গত বছরের ১৩ নভেম্বর পাঁচতলা বিশিষ্ট ২ টি একাডেমিক ভবন,তিন তলা বিশিষ্ট দুটি ছাত্র ও ছাত্রী নিবাস নির্মাণ ও অধ্যক্ষ’র কোয়ার্টার সংস্কার এবং আসবাব পত্রের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু গত ৬ মাসেও সেখান থেকে কোন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।১৯৪০ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় নির্মিত সুউচ্চ দ্বিতল ভবনটি এখনও ভাল থাকায় সেই সময়ের ঠিকাদার সহ সংশ্লিষ্টদের সততার বিষয়টি আজও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।এদিকে গত বছর রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি করে ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের হিরক জয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ণ হয়নি। গোটা দক্ষিনাঞ্চলকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে উত্তরণে যে কলেজটি আলোবর্তিকার ভূমিকা পালণ করেছে সংকট ও সমস্যা দূর করে সেই কলেজটিকে আবারও হারানো হৃদগৌরবে ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন শিক্ষা সচেতন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

PopAds.net - The Best Popunder Adnetwork
x

Check Also

প্রশ্ন ফাঁস: মামলা ৫২ গ্রেপ্তার ১৫৩

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জরিত সন্দেহে সারা দেশে মোট ৫২টি মামলা ও ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা ...

Translate »
shares